নিষিদ্ধ সম্পর্কের বেড়াজাল
কলমে : ঘোষ উত্তম
মনে করুন আপনি বা আমি একজন পুরুষ বা নারী । ফেসবুকের দেয়ালে সম্পর্কের শুরু, ইনবক্সে ঘনিষ্ঠতা—তারপর কখন যে একটি নিরীহ বন্ধুত্ব অদৃশ্য এক নিষিদ্ধ বা শ্রদ্ধার সম্পর্কে পরিণত হয়, অনেকেই তা বুঝতে পারেন না।
আমি বা আপনি একজন পুরুষ বা নারী যাই হই না কেন একসাথে ঘুরতে গেলেই, একসাথে রেস্টুরেন্টে খেলেই, সিনেমা দেখতে গেলেই, ফ্ল্যাটে হই হুল্লোড় করলেই যে আমরা নষ্ট সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছি এমনটা ভেবে নেওয়া অপরাধ এবং হীন মন্যতার রুচির পরিচয়। আপনার ফেসবুক আইডিটা দেখান তো সিংহভাগ বন্ধুই বিপরীত লিঙ্গের , লজ্জা পাচ্ছেন না মনে মনে হাসছেন না ভাবছেন এই রে ধরা খেলাম বুঝি । শতভাগ অনেস্ট থাকুন । মনে হবে কিছুই না। ...
সব মানুষ, সব মানুষের সবরকম সম্পর্ক, সব মানুষের চিন্তা ধারা একইরকম হবে, এমনটা ভেবে নেওয়াই ভুল.....।
ফেসবুক কাউকে সম্পর্কের সীমা ভাঙতে বাধ্য করে না; মানুষ নিজেই সিদ্ধান্ত নেয় কোথায় থামবে। তাই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো সীমারেখা বোঝা।
একটি ছেলে মেয়ে দুজনে দুজনের খুব ভালো বন্ধু হতে পারে, ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকতে পারে। দুজনের অন্য অন্য জায়গায় বিয়ে হলেও তারা একে অপরের সঙ্গে সারাজীবন ভালো বন্ধুত্ব রাখতে পারে, জীবনের চূড়ান্ত হতাশার মুহূর্ত গুলো তারা নিজেদের মধ্যেই একমাত্র শেয়ার করতে পারে...। আমি আপনি--
এমন বন্ধু তৈরী করতে পেরেছি, নাকি মেকি সেজেগুজে আছি।
সব সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে না, কিন্তু প্রতিটি গোপন সম্পর্কেরই একটি মানসিক মূল্য আছে। ভার্চুয়াল পর্দার আড়ালে যে অনুভূতিকে ‘নিরাপদ’ মনে হয়, বাস্তব জীবনে সেটিই কখনো হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।
ফেসবুকে বন্ধুত্ব থাকুক, হৃদ্যতা থাকুক—কিন্তু কারও বিশ্বাস ভেঙে নয়। কারণ সম্পর্ক ভাঙার শব্দ শোনা যায় না, শুধু একদিন দেখা যায়—মানুষটি পাশে থেকেও অনেক দূরে চলে গেছে।
একজন পুরুষ ও নারীর মধ্যে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধার সম্পর্ক থাকতে পারে। দুজনেই দুজনকে ভীষণ শ্রদ্ধা করতে পারে, দেবতা মনে করতে পারে, যে কোনো অসুবিধায় পড়লেই সবার প্রথমে তার কথা মনে আসতে পারে...
আছে এমন বন্ধু আপনার। এমন সম্পর্কের আপনজন। আমার আছে স্বীকার করি, কিন্তু আপনি স্বীকার করুন তো অনেস্টলি।
Labels: জীবন ও সম্পর্ক
Source: অনলাইন সাহিত্য বিষয়ক ই-পত্রিকা