চুরি করে পড়া প্রথম পাঠস্মৃতি
কলমে : ঘোষ উত্তম
বাবার দেরাজ থেকে চুরি করে পড়া আমার প্রথম উপন্যাস \" পথের পাঁচালী\"। বর্ষা রাতে টিনের চালে একটানা বৃষ্টির শব্দ টিমটিমে হারিকেনের আলোতে পড়া আমার স্মৃতিতে অম্লান অপুর জীবন আজও আমার গ্রামের আনাচকানাচে খুঁজে বেড়াই। নদীর তীরে ঘাটে বসে শ্মশানে কল্পনা করি এখানেই বুঝি অপুর মার শেষকৃত্য করা হয়েছিল। প্রত্যেক সন্তানের জীবনে বাবা-মা হারানো সুর এক এক রকম। অপুর জীবনেও তেমনি --
বিশেষ করে অপুর বাবা মা মৃত্যু বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় অপুর অনুভূতির ছোঁয়ায় হৃদয়স্পর্শী করে তুলেছেন___
\" যে বাবাকে সকলে মিলিয়া আজ মণিকর্ণিকার ঘাটে দাহ করিতে আনিয়াছিল, -- রোগে,জীবনের যুদ্ধে পরাজিত সে বাবা স্বপ্ন মাত্র--অপু তাহাকে চেনে না, জানে না-- তাহার চিরদিনের একান্ত নির্ভরতার পাত্র, সুপরিচিত, হাসিমুখ বাবা জ্ঞান হইয়া অবধি পরিচিত সহজ সুরে, সুকন্ঠে, প্রতিদিনের মতো কোথায় বসিয়া যেন উদাস পূরবীর সুরে আশীর্বাচন গান করিতেছে----
কালে বর্ষতু পর্জন্যাং পৃথিবী শস্যশালিনী
লোকাঃ সন্তু নিরাময়ঃ।\"
--------------
\"ঘরের পৈঠায় অপু চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। উঠানের বাহিরে আগড়ের কাছে এক জায়গায় পোড়া খড় জড়ো করা। সেদিকে চোখ পড়িতেই অপু শিহরিয়া উঠিল --- সে বুঝিয়াছে----- মাকে যাহারা সৎকার করিতে গিয়াছিল, দাহ অন্তে তাহারা কাল এখানে আগুন ছুঁইয়া নিমপাতা খাইয়া শুদ্ধ হইয়াছে। প্রথাটা অপু জানে--- মা মারা গিয়াছেন এখনো অপুর বিশ্বাস হয় নাই---- একুশ বছরের বন্ধন, মন এক মূহুর্তে টানিয়া ছিড়িয়া ফেলিতে পারে নাই ---- কিন্তু পোড়া খড়গুলাতে নগ্ন, রূঢ়,নিষ্ঠুর সত্যটা---- মা নাই! মা নাই!----\"


Labels: স্মৃতিকথা
Source: অনলাইন সাহিত্য বিষয়ক ই-পত্রিকা